শুক্রবার, ২৫ Jun ২০২১, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
ইভ্যালি-আলেশা মার্টসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় ব্র্যাক ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শর্তসাপেক্ষে ২য় বর্ষে প্রমোশন গুলশানে‌ ফ্ল্যাট থেকে তরুণীর লাশ উদ্ধার, বসুন্ধরা গ্রুপ এর এমডি তানভীর এর বিরুদ্ধে মামলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ আবারও পেছালো কক্সবাজারে বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কায়াকিং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত ঢাকায় বয়ফ্রেন্ড ভাড়া করছে কোটিপতির সুন্দরী মেয়েরা ফুল আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন নজরুল মন্ডল টানা তিবারের (হ্যাট্রিক) কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন রনি নির্বাচিত গোয়ালন্দ পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নজরুল মন্ডলের জয়লাভ
বেঁচে থাকার নাম জীবন নয় কায়দা করে বেঁচে থাকার নাম জীবন

বেঁচে থাকার নাম জীবন নয় কায়দা করে বেঁচে থাকার নাম জীবন

কবিতায় থাকে মানুষের জীবন উত্থান পত্তনের গল্প, প্রেম কাহেনী, সামাজিক জীবনের প্রেক্ষাপট অথবা দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া গল্পের অংশ বিশেষ। এরই সংমিশ্রণে কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজ প্রকাশ করেছেন কায়দা করে বেঁচে থাকো কবিতার বইটি।

জীবন না ধর্ম, রান্নাঘর, ১০১০১৯৯০, ভরসার অনুবাদ, প্রেম হয় না প্রাক্তন, হ্যাঙ্গারে ঝোলানো জীবন, বিবর্তন, আয়নাবাজি, সামাজিক ময়নাতদন্তসহ বইটিতে মোট ৬২ টি কবিতা রয়েছে।
প্রত্যেকটি কবিতার আকর্ষণীয় নামকরণের মাধ্যমে কবি পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

লেখকের কবিতায় শুধু মাত্র দেশ, সমাজ, প্রেম প্রণয়, জাতিকে নিয়ে ভাবনাই ফুটে উঠেনি বরং ফুটে উঠেছে সমাজের উঁচু তলা থেকে নিচু তলার মানুষের জীবন যাত্রা ও তাদের মন মানসিকতা। “পৃথিবীতে নেই কোনো বিশুদ্ধ চাকরি” কবিতায় কবি ইতিহাসের অনেক বড় নক্ষত্রকে টেনে যেমন নিচে নামিয়েছেন তেমনি অনেক ব্যাক্তিকে সম্মানের উচ্চ আসনে স্থান দিয়েছেন।

বইটিতে পাওয়া যায় কথা সাহিত্যের স্বাদ, নান্দনিকতার উপলব্ধি। আট, দশটা কবির মতো লেখক এই বইয়ে ব্যাবহার করেননি কোনো গুরুগম্ভীর শব্দ। অতি সুন্দর সাবলিল ভাষায় প্রতিটি লাইন রচনা করেছেন। প্রতিটি লাইনে লাইনে ছন্দের মিল ও পাওয়া যায় বটে।

কায়দা করে বেচেঁ থাকো বইটির প্রচ্ছদে নেই কোনো লেখকের নাম। এই প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন,” সর্বস্বযুগে কাজের চেয়ে নামের বাহারই বেশি দেখা যায়! এর বিপরীতে আমি কাজকে গুরুত্ব দিয়ে কাভারটি নামহীন রাখার চিন্তা করলাম”।

বইটিতে নেই কোনো সূচিপত্র। মন খারাপ কিংবা উদাসিনতায় প্রিয় কবিতাটি খুঁজতে পাঠকের জন্য হয়তো একটু কষ্টকর হবে। তবে এই প্রসঙ্গে কবি বইটির শুরুতেই লিখেছেন, “জীবন ও কবিতা সূচিপত্র মেনে চলে না! “।

এই লাইনটিকে নিয়ে একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায়, আমাদের প্রত্যেকের জীবনের তো কোনো সূচিপত্র নেই যখন যেই পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাদের নিজেদের মানিয়ে নিতে হয় অথবা অন্যকে মানতে বাধ্য করা হয়। সূচিপত্র না দেওয়া মাধ্যে লেখক তার এই সুদূর প্রসারী ভাবনা পাঠকের মন জগতে বিস্তৃত করেছেন।

যাথা স্থানে যথা উপযুক্ত প্রায়োগিক ভাষা প্রয়োগে কবি নিঃসন্দেহে দক্ষ। চলিত ভাষায় তার লেখন শৈলী পাঠকে আকৃষ্ট করে রাখে ৭৯ টি পৃষ্ঠায়। বইটির শেষে রয়েছে ” মুখোশের পাঠশালা ” নামে একটি অংশ। যেখানে কবি বাংলা বর্ণমালা প্রতিটি অক্ষরে ম্যাক্সিম রচনা করেছেন। অর্থ হচ্ছে “রাষ্ট্র সমাজের গভীরতম জীবনবোধ অল্প কথায় প্রকাশ করা”। সচরাচর ম্যাক্সিম এর প্রয়োগ খুব একটা দেখা যায় না।

লেখক একান্তই নিজেস্ব ব্যাতিক্রমধর্মী মন্তব্য করেছেন এই অংশে। যেমন: ই- অক্ষরে লিখেছেন ” প্রতিটি মুহূর্ত মানুষ আপন রসুইঘরে জীবনকেই মনের মতো রান্না করে!” ; ত-” সারল্য সততায় হেরে গেলে কারো কাছে জেনে রেখো তাতে মিষ্টি আনন্দ আছে!” ; ম- সত্য মূলত এক প্রকার মিথ, বোকারা সত্যের সাথে মিথ্যাকে সাময়িক মেলায়!” ; জ- “আস্থির শহরে স্থির হতে কেউ বাড়ি ধরে কেউ গাড়ি, কেউ বা নারী, আমি ধরে আছি ধৈর্য” ; ট- “পশু বিনা কারনে কারো ক্ষতি করে না কিন্তুু মানুষ কারণে অকারণে ক্ষতি করে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়!”।

বইটির কালো রঙ এর মলাটে ও জীবনের গল্পকে প্রতিফলিত করে। মলাটের ছবির চোখ দুটি যেনো সমাজ পরিবর্তনের প্রতীক্ষায় প্রহোর গুনছে। জনগনকে জাগ্রত করতে চায় সমগ্র দেশের জনতার অনাচার অনিয়মের দিকে আঙুল তুলছে। অনেক রকম ভাবনা চিন্তাকে জাগ্রত করে শেষে হয়ে গেলো কায়দা করে বেঁচে থাকো বইটি। ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার জন্য হলেও বইটি এক বার পড়ে দেখতে পারেন।

কায়দা করে বেঁচে থাকো, ইমরান মাহফুজ, ঐতিহ্য প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ২০২০, পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯, মূল্য ১৩০ টাকা।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2021 BD SUNRISE