কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে ইকবাল চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মোঃ আল আমিন, কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৫৬ PM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহলের মাধ্যমে মামলাবাজ মাহমুদাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড এন্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড এন্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, মিরেরবাগে ভাড়াটিয়া একজন মহিলা স্থানীয় কয়েকজন কে নানা ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ আসছে।

বিষয়টি তখন খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে তাদেরকে মীমাংসা করতে বলি। কিন্তু ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লাটা দিনের পর দিন ভারী হতে থাকে তখনও প্রতারণাকারী ওই নারীর নাম আমি জানতাম না।

কিন্তু নির্যাতিত একজন নারী যখন সরাসরি আমার কাছে ঐ নারীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগে বিচার দাবি করেন তখন জানতে পারি ওই নারীর নাম মাহমুদা । তিনি ইতিমধ্যে এসপি মসজিদের পাশে একজন কে ব্ল্যাকমেইল করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি শিল্পীর নাম নিয়ে রাসেল রমজান ও জয়নালকে ব্ল্যাকমেল করে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে কানাপট্টি বাসিন্দারা তাকে ওই এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন এরপর তিনি মিরেরবাগে ভাড়া বাসায় উঠে এবং সেখানকার মানুষদের সাথে প্রতারণা শুরু করে । তার কর্মকাণ্ড দেখে বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বললে মাহমুদা ওই বাড়িওলাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

ইকবাল চেয়ারম্যান আরো বলেন, এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আমার কাছে আসতে থাকলে আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ কে অবহিত করে প্রতারণাকারী মাহমুদাকে আমার অফিসে আসতে বলি।

আমি তাকে তার প্রতারণার বিষয়ে জানতে চেয়ে বলি আপনি ফার্স্ট ফাইন্যান্স ব্যাংকের এমডি তুহিন রেজার নামে মিথ্যা অপপ্রচার করে মামলা দিয়েছেন। আপনি তাকে চেনেন? মাহমুদা বলেন আমি দেখলে চিনতে পারবো কিন্তু তুহিনের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে চিনতে পারেন নি।

তাহলে কেন এমন মিথ্যা মামলা দিয়েছে জানতে চাইলে মাহমুদা জানান, স্থানীয় সোহেল ও সেলিমের প্ররোচনায় তিনি এসব করছেন। তাদের সাথে আরও রয়েছে সুজন, নুরুল ইসলাম, সোহেল, সাথী, রেখা, নাজমা, পারুল, মেহেদী, রিপন, মোহনা ও বিলকিসসহ আরো অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

তখন বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করার জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শাহাদাতকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর প্রতারণাকারী মাহমুদা নিজে গিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর আমি জানতে পারি ওই প্রতারণাকারী নারী আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করেছেন আমি নাকি তাকে অপহরণ করেছি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি গল্প।

আসলে আমার জনপ্রিয়তায় একটি কুচক্রী মহল প্রতারণাকারী নারীকে ব্যবহার করে হয়রানি করছে। তারা জনগণের কাছে আমাকে ছোট করতে আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ছোট করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

আমি গণমাধ্যম বন্ধুদের কাছে এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকু এবং বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড এন্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :