”করোনার মধ্যে এইসএসসি নয়” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ভার্চুয়াল আন্দোলন

রবিউল হাসান,রাজবাড়ী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৩১ PM, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

চলতি বছরের এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা চালু হওয়ার কথা থাকলেও সারা বিশ্বে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে সকল স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

করোনার মধ্যে এইচএসসি নয় ফেসবুক গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ২ লক্ষ্য ৯১ হাজার।ফেসবুক গ্রুপের এডমিন মুজাহিদ ও মডারেটর ফারদিন ইসলাম সহ অনেকেই। মুজাহিদ ঢাকার বিসিআইসি কলেজের এবং ফারদিন ইসলাম রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা করোনার এই মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যপারে যেন তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে সেই উদ্দেশ্য থেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে “করোনার মধ্যে এইচএসসি নয়” এই নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপ খোলেন তারা এবং অল্প সময়ের মধ্যে গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যপক সাড়া পায়।

করোনার বর্তমান এই মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা না নেওয়ার ব্যপারে শিক্ষার্থীদের যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলোঃ

বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে একটি কঠিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করেছে।

চলমান মহামারির কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। করোনার কারণে কয়েক দফায় গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ কারণে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে ছয় মাস ধরে।

গত মার্চ মাসে যখন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছিল ঠিক সেই সময় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা প্রকাশ পেতে থাকে। চলতি বছরের ১ এপ্রিল এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এ পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এরপর প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই সময়ে কলেজগুলোর সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ নেই। শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি ধরে রাখতে না পেরে অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছে এবং মানসিক ভাবে অসহায় হয়ে পরেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ঠিক মতো পড়ালেখা করতে পারছে না।

আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আবারও বাড়ছে। আগামী ৩ অক্টোবরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না। এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো, স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় কখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে এবং কখন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়া হয়নি।

বছরের এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কার্যক্রম শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত হতো। একটি দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে আটকিয়ে গেছে, যেটা তাদের আরো হতাশায় ফেলে দিয়েছে। সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া ফেসবুকে পেজ ও প্রোফাইলে (মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন বোর্ড) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাল্পনিক তারিখ ঘোষণা করে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর আশঙ্কা অনুযায়ী করোনার ২য় পর্যায় এর মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া সহ অন্যান্য এশিয়া মহাদেশীয় দেশকে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ফলাফল ভয়াবহ হয়েছে। ইতিমধ্যে মহামারীর কারণে ইংরেজী মাধ্যমের এ লেভেল পরীক্ষা বাতিল ঘোষিত হয়েছে।

আসন্ন শীতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন করোনা ঝুঁকির মাঝে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। আগামী মাস থেকে দেশে শীতের প্রকোপ শুরু হয়ে যাবে বিধায় ধারণা করা হচ্ছে যে এবছর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না।

ইতিমধ্যে পরিক্ষার্থীরা উক্ত পরিস্থিতি থেকে মুক্তি লাভের জন্য একত্রিত হয়ে “করোনার মধ্যে এইচএসসি নয়” নামক ফেসবুক গ্রুপ খুলে সেখানে ভার্চুয়াল আন্দোলনের মাধ্যমে প্রায় ৩ লক্ষ পরিক্ষার্থী নিজেদের কষ্টের কথাগুলো এবং অনুরোধগুলো তুলে ধরছে।

এমতাবস্থায়, সমস্ত পরিক্ষার্থী ও করোনা মহামারীর গতিবিধির সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আর বিলম্ব না করে অতিদ্রুত পরীক্ষার্থীদেরকে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি প্রদান করে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং দীর্ঘ সেশনজট থেকে মুক্তি লাভ করে অতিদ্রুত যেন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে এমন বিকল্প কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে পরীক্ষার্থীদের একাডেমিক ভবিষ্যত রক্ষা করতে ও জাতির সন্তানদের এই মৃত্যুফাঁদে ঠেলে না দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রায় সকল পরিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন :