নির্ভিক সৈনিক রনি করোনা কালে ৬৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন

মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪৮ PM, ২৮ অগাস্ট ২০২০

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য মেডিকেলের টেকনোলজিস্ট মো.আমিরুল ইসলাম রনি একাই ৬৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। মহামারি করোনা ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, তাতে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই।

তাই ভয় না পেয়ে থাকতে পারেননি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আমিরুল ইসলাম রনি (৩৪)। তবে সেই ভয়কে তিনি জয় করেছেন। আর এ ক্ষেত্রে তিনি সাহস সঞ্চয় করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।

আমিরুল ইসলাম রনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের মানুষ যদি জীবন বাজি রেখে শত্রুর মোকাবিলা করতে পারেন, তাহলে আমি কেন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারব না! এখনকার সময়টা একরকম যুদ্ধেরই।

দেশ ও মানুষকে কিছু দেওয়ার। এই যুদ্ধ সাময়িক। এই দুঃসময় একদিন কেটে যাবে। মুক্তিযুদ্ধ আমাকে এই সাহস ও শক্তি দিয়েছে। পরিবারের লোকজন পাশে দাঁড়িয়েছে। সাহস জুগিয়েছেন সাথে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থাকতে পারে, এমন ব্যক্তিদের পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন তিনি। এখন পর্যন্ত তিনি ৬৫০ জনের মতো নমুনা সংগ্রহ করেছেন তার সাথে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সংগ্রহকারী একটি দল।

এই দলে রয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নিতাই কুমার ঘোষ, চিকিৎসা কর্মকর্তা সামিউল হুদা (করোনা ফোকাল), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আমীরুল ইসলামসহ কয়েকজন মাঠকর্মী। তাঁদের সার্বিক তদারকি করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ।

আমিরুল ইসলাস রনি বলেন,নিজের ভয় ছিল। পরিবারের সবার ভয় ছিল। তবু একটা সময় মনে হলো, দেশের ক্রান্তিলগ্নে কিছু করতে হবে। সরকারের টাকা খাই, জনগণের টাকা খাই। এভাবে ভয় পেলে তো হবে না। মুক্তিযুদ্ধে যদি মানুষ দেশের জন্য জীবন দিতে পারে, তাহলে আমি কেন পারব না।

তিনি আরো বলেন, ৪ এপ্রিল প্রথম নমুনা সংগ্রহ করেন তিনি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধের দিন ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই তিনি নমুনা সংগ্রহ করছেন। একদিন সর্বোচ্চ ৫৩ টি নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। এ পর্যন্ত তিনি ৬৫০ জনের মতো নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

এর মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছে ১৯৬ জনের। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ আর ১ জন চিকিৎসা অবস্থায় মারা গেছেন। নমুনা সংগ্রহের কাজটি এখন তাঁর কাছে আর ভয়ের নয়। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি কেটে গেছে।

এ ছাড়া জেলার সিভিল সার্জন, রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা তাঁকে সাহস ও উৎসাহ দিয়েছেন বলে তিনি জানান। তবে তাঁর একটা আফসোস হলো, সরকার কোভিড হাসপাতালে কর্মরতদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও নমুনা সংগ্রহকারীদের জন্য কিছু নেই।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নিশ্চিত কোভিড-১৯ জেনে যারা বুক চিতিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের একজন আমিরুল ইসলাম রনি।

গোয়ালন্দ থানার নানা প্রান্ত তিনি ছুটে গেছেন নমুনা সংগ্রহ করতে। কেউ তাঁর এই নির্ভীক কাজের মূল্যায়ন করুক আর না করুক, আমি তার জন্য মন থেকে সব সময় দোয়া ও অফুরন্ত ভালোবাসা জানাই।

আপনার মতামত লিখুন :