গোয়ালন্দ বন্ধুসভার মাধ্যমে প্রথম আলো’র ত্রাণ পৌছে গেল দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কাছে

জীবন চক্রবর্তী, গোয়ালন্দ।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১০ AM, ২৫ অগাস্ট ২০২০

“একটা পোলা আলাদা খায়। তাই স্ত্রীকে নিয়া অনেক কষ্টে দিন পার করছি। নিজের জমি জাতি নাই। অন্যের এক বিঘা জমি বর্গা চাষা করে খাই। এভাবে কোনরহম জীবনডা চইলা যাচ্ছে। কোনদিন দুই বেলা, কোন দিন এক বেলা খাই। অনেকদিন পর তেরান পাইয়া মন ভইরা গেল।

বাইস্যার কারণে কোনহানে যাইতে পারিনা। কিছু আনতেও পারিনা। আপনারা চাল, ডাল দিয়ে গেলেন।” প্রথম আলো ট্রাস্টের দেওয়া খাদ্য সামগ্রী পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিশপুর গ্রামের বৃদ্ধ কাসেম শেখ (৭৫)।

সোমবার (২৪ আগষ্ট) গোয়ালন্দ উপজেলার দুর্গম অঞ্চল উজানচর ইউনিয়নের চর মজলিশপুর, চর মহিদাপুর, চর করনেশনা ও আংকের শেখের পাড়া এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আইনদ্দিন পরামানিক পাড়া, করনেশনা, তমিজ মৃধার পাড়া ও দুলাল বেপারীর পাড়ার অসহায় ১০০ বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

খাদ্য তালিকায় চাল, মুশুরি ডাল, সয়াবিন তেল ও লবন দেয়া হয়। গোয়ালন্দ বন্ধুসভার সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতায় ওই সব অসহায় মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন। এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা ওই সব অঞ্চল ঘুরে অসহায় মানুষের তালিকা তৈরী করে।

গোয়ালন্দ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের শুষ্ক মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি এবং বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। করোনার কারণে ওই সব অঞ্চলের অনেকে যারা বাইরে শ্রমিকের কাজ করে দিন যাপন করতো তারা অনেকটা বেকার হয়ে বাড়ি বসা।

পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার কারণে তারা অন্য কিছু করতেও পারছে না। এসব মানুষ আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। সরকারিভাবে ত্রাণ সহযোগিতা কিছু দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

উজানচর ইউনিয়নের দুর্গম চর মজলিশপুর এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী হাতে পেয়ে বৃদ্ধা কুলসুম বেগম (৭০) বলেন, “বহু বছর আগে স্বামী মারা গেছে।

একটি ছেলেকে নিয়ে কোনরকম বেঁচে আছি। কাম-কাজ না থাকায় বেকার বসে আছে।ঘরে তেমন খাওন নাই। আপনারা আমাগোর হাতে তেরান দিবেন ভাবতেই পারিনি। আল্লাহ আপনাগো ভালা রাখুক”।

দৌলতদিয়ার আইনদ্দিন পরামানিক পাড়ায় ত্রাণবাহি ট্রলারসহ বন্ধুসভার দলকে ঘিরে ধরে বানভাসি মানুষ। এসময় ত্রাণের প্যাকেট পেয়ে বানভাসি ধলাবুড়ু (৭০) মুখে হাসি ফুটে উঠে।

তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তার স্বামী রহম আলী মারা গেছেন। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও মেয়েদের বিয়ে হয়েছে। ছেলেরাও বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তিনি একাই স্বামীর ছোট্র ভিটায় পড়ে থাকেন।

প্রতিবেশীসহ এলাকার মানুষজন তাকে দেখভাল করেন। ধলা বুড়ু বলেন, বাবাগো আমারে সবাই কমবেশি খাবার দেয়। তই কোনদিন এভাবে চাল, ডাল, তেল, লবন কেউ দেয়নি। তোমাগোর কাছ থেকে তিরান পাইয়া মনডা ভরে গেল। দোয়া করি সবাই যেন ভাল থাকে।

এসময় উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কাদের মোল্লা, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য রিনা বেগম, দৌলতদিয়া ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল গাফ্ফার খান, প্রথম আলো প্রতিনিধি ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা এম রাশেদুল হক, বন্ধুসভার সভাপতি মুহাম্মদ বাবর আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক জীবন চক্রবর্তী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সফিক মন্ডল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিলয় রানা, সদস্য মো. সবুজ, রবিউল ইসলাম প্রমূখ।

ইউপি সদস্য আব্দুল গফফার খান বলেন, এর আগে প্রথম আলো পত্রিকায় নিউজ ছাপা হলে প্রশাসন জরুরীভাবে কিছু শুকনা খাবার দেয়। এরপর তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলো পত্রিকা যেভাবে মানুষের পাশে দাড়ায় তাদেরকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানায়। আপনারা আমার এলাকায় ত্রাণ দেয়ায় নিজের কাছে খুব ভাল লাগছে। প্রথম আলো এবং বন্ধুসভার কৃতজ্ঞ।

আপনার মতামত লিখুন :