মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১২ বস্তা টাকা, রয়েছে স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০১ AM, ২৩ অগাস্ট ২০২০

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ১২ বস্তা টাকা। দানবাক্সগুলো খোলা হলো ৬ মাস পর। এতে কেবল টাকা নয় পাওয়া গেছে স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে মসজিদের ৮টি দানবাক্স খুলে এসব টাকা পাওয়া যায়। গুণে দেখা গেছে দানবাক্সগুলোতে ছিল এক কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছন।

এবার প্রায় ৬ মাস ৭ দিন পর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হলো। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ১ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সাধারণত ৩ মাস পর পর দানবাক্স খোলা হয়। তবে এবার করোনা মহামারির কারণে দেরিতে খোলা হয়।

জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জের ডিসি ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। ছোট বড় ১২টি টাকা ভর্তি বস্তা নেয়া হয় মসজিদের দ্বিতীয় তলায়। এরপর শুরু হয় গণনার কাজ।

এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তা ও মসজিদ মাদরাসার শতাধিক শিক্ষার্থী গণনা কাজে সহযোগিতা করছেন। বিকেল ৫টা নাগাদ গণনা শেষে জানা যাবে এবার কত টাকা পাওয়া গেল। টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া গেছে স্বর্ণালঙ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রা।

টাকা গণনার কাজ তদারকি করেছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পাগলা মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফজলে রাব্বি, মাহমুদুল হাসান, উবাইদুর রহমান সাহেল, পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দীন ভূঞা ও রূপালী ব্যংকের কিশোরগঞ্জ শাখার কর্মকর্তারা।

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের অবস্থান। এখানে ইবাদত বন্দেগি করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায় বলে মানুষের বিশ্বাস। রোগ-শোক বা বিপদে মসজিদে মানত করলে মনের বাসনা পূর্ণ হয়।

এসব বিশ্বাস থেকে এখানে প্রতিনিয়ত দান খয়রাত করেন মানুষজন। তিন মাস পর পর খোলা হয় মসজিদের দানবাক্স। প্রতিবারই টাকার পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় কোটি টাকা। নানা শ্রেণিপেশা আর ধর্মের লোকজন এখানে আসেন মানত করতে।

দানকৃত টাকায় পাগলা মসজিদ ও ইসলামী কমপ্লেক্স এর খরচ চালিয়ে অবশিষ্ট টাকা জমা রাখা হয় ব্যাংকে। দানের টাকা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :