দৌলতদিয়ায় অবৈধভাবে গাড়ি পার করার অভিযোগে কথিত সাংবাদিক সহ চার জনের দন্ড

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২১ AM, ৩১ জুলাই ২০২০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ঈদকে উপলক্ষ করে বাড়তি অর্থের আশায় অবৈধভাবে গাড়ি পার করার অভিযোগে কথিত সাংবাদিকসহ চারজনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালত।

পরে এর মধ্যে দুইজনকে ৬ মাসের জেল এবং বাকি ২ জনকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালন করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

দ্বন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কথিত সাংবাদিক জনতার বিবেক অনলাইন পোর্টাল এর প্রকাশক ও সম্পাদক সুজন খন্দকার (২৮) ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আতিয়ার রহমান (৩৬)। এদেরকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া রাজীব মন্ডল (২৮) ও উজ্জল ফকির (২৭) নামের আরো দুই তরুণকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এদের প্রত্যেকের বাড়ি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

ভ্রাম্যমান আদালত ও পুলিশ জানায়, আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়া ঘাটে স্থানীয় কিছু অপরাধী চক্রের সদস্য ফের জেগে ওঠার চেষ্টা করে। এ ছাড়া স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় ও তথা কথিত তরুণ সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা ঢাকাগামী পণ্যবাহি পরিবহণ থেকে বাড়তি টাকা গাড়ি আগে ফেরিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত দশটার দিকে দৌলতদিয়া ট্রাফিক পুলিশ বক্স এলাকায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের সদস্যরা গাড়ি আগেভাগে পার করার চেষ্টা করছিল। তারা লম্বা লাইনে থাকা পণ্যবাহি গাড়ি চালকদের থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আগে ফেরিতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করে।

এসময় ঘাট এলাকায় কর্তব্যরত গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল হাতেনাতে কথিত সাংবাদিক সুজন খন্দকার ও সাবেক ছাত্রদল নেতা আতিয়ার রহমানকে আটক করে।

একই সময় একই অপরাধের অভিযোগে ঘাটে অবস্থানরত ইউএনও আমিনুল ইসলাম ও এসিল্যান্ড আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজীব মন্ডল ও উজ্জল ফকিরকে আটক করে। একই সাথে তাদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেন। পরে রাতেই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সুজন খন্দকার ও আতিয়ার রহমানকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং রাজীব মন্ডল ও উজ্জল ফকিরকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমাান করেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ঘাট এলাকায় অপরাধী চক্রের তৎপরতা এবং পরিবহনের দালালী দমন করতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। এছাড়া ঈদে ঘুরমুখী মানুষ ও যানবাহন যাতে নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারে এ জন্য ভ্রাম্যমান আদালত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করছিল।

এসময় ঘাটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধভাবে কয়েকটি যানবাহন থেকে বাড়তি সুবিধা নিয়ে আগেভাগে ফেরিতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। এসময় আরো কয়েকজন থাকলেও তারা বিষয়টি টের পেয়ে গেলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে আটককৃতরা অভিযোগ স্বীকার করায় দুইজনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং অপর দুইজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায়ের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :