“ইউনিভার্সাল এমিটি” এর বিনামূল্যে ১ বেলার খাবার

মেহেদী হাসান, সিনিয়র লেকচারার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:০৭ PM, ২৭ জুলাই ২০২০

আমাদের এই ছোট বাংলাদেশে কত পরিচিত-অপরিচিত সংগঠন রয়েছে যাদের কাজ হচ্ছে দরিদ্র, অসহায়, দুস্থ মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকা। বাংলাদেশের নামকরা সাহায্যকারী সংগঠনের মত না হলেও বর্তমানে একটি সংগঠনের নাম বেশ ভালোভাবে শোনা যাচ্ছে “ইউনিভার্সাল এমিটি”।

বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে এই সংঠনটি ত্রাতার ভূমিকা পালন করে আসছে উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে। করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত জনজীবন। গোটা বিশ্ব যেখানে গৃহবন্দী,সেখানে নিস্তার নেই ছিন্নমূল মানুষগুলোর। তাদের আগেও যেমন রাস্তায় দিন কাটাতে হতো, ঠিক তেমনই এখনো তাদের রাস্তায় দিন কাটাতে হয়।

খেটে খাওয়া মানুষগুলোর একবেলার আহার জোটানোই যেখানে কষ্ট সাধ্য ছিল, এখন করোনার সময়ে কর্মহীন হয়ে তারা যেন না খেয়ে বেচে থাকার লড়াই চালাচ্ছে। ইউনিভার্সাল এমিটি গত ৭ জুন থেকে “ফুড ফর গুড” নামক খাদ্য সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা শুরু করে।

ঢাকার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অনাহারী, দুস্থ, অসহায় মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেয়া হলো এই প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য। গত একমাস যাবৎ সাফল্যের সাথে এই কাজ করে যাচ্ছে ইউনিভার্সাল এমিটির স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা অর্থের সাহায্য নিয়ে সংগঠনটি নিশ্ছিদ্র ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে৷

ঝড়, বৃষ্টি সব উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রতিদিন প্রায় শতাধিক অনাহারীর মুখে খাবার তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ক্ষুধার্ত মানুষগুলোর মুখে খাবার তুলে দেয়াই এই সংগঠনের কর্মীদের অনুপ্রেরণার মুল চালিকা শক্তি। “ইউনিভার্সাল এমিটি” যেন তাদের নামের প্রতি সুবিচার করে আসছে প্রথম থেকেই।

সংগঠনটি “ইউনিভার্সাল” তথা “সার্বজনীন” হতে সদা তৎপর। প্রতিনিয়তই নতুন নতুন মানবসেবা সংযোজন করে যাচ্ছে। সংগঠনটির নেয়া খাদ্য সরবরাহের সাথে সম্পৃক্ত আরো একটি প্রকল্প হচ্ছে “ফিড এ হাংরি চাইল্ড, যেখানে প্রতি রাতে ঢাকার মিরপুরের অসহায় ছিন্নমূল শিশুদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা।

সংগঠনটি তাঁদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে নিজেদের মাসিক চাঁদা ও সহৃদয় মানুষদের দেয়া অনুদান দিয়ে। অনুদান নেয়ার ব্যাপারে তাঁদের একটু ভিন্ন পথে হাঁটতে দেখা গেছে,যেমন তাঁদের মতে চ্যারিটি একটা মহৎ কাজ এবং এটা অভ্যাসে পরিনত হওয়া উচিৎ।

সমাজের যে কেউ চ্যারিটি করতে পারে তার জন্য প্রয়োজন সামান্য সদিচ্ছার, অনেকের দেয়া স্বল্প অর্থও একসাথে অনেক বড় অবদান রাখতে পারে। তাই স্বল্প হলেও বিপন্ন মানুষকে সাহায্য করা উচিৎ।এমনকি তাঁরা সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে ২৫ টাকা অনুদান দিতে, কারন ২৫ টাকায় একজন অভুক্ত মানুষের রাতের খাবার হয়।

তাঁরা বলছে ১০০ টাকায় ৫ জন ক্ষুদারত শিশুর খাবার হয়। অর্থ সংগ্রহ থেকে, বাজার করা, রান্না করা এবং সবশেষে বিতরণ সবটাই অতি যত্নের সাথে করে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকরা। এরই কারনে তাঁদের পক্ষে স্বল্প মূল্য এই সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

তাঁরা মনে করে কোন মানুষ অভুক্ত থাকা উচিৎ না, এবং একজন মানুষ চাইলেই একজন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। তাঁদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে তিনদিন সবজি খিচুড়ি আর ডিম ভুনা, তিনদিন ভাত সবজি আর ডিম আর একদিন ভাত সবজি আর মুরগির মাংস।

যারা খাবার গ্রহণ করে সেই তালিকায় আছে ছিন্নমূল মানুষ, ভব ঘুরে, ফুটপথে ঘুমিয়ে থাকা শিশু, বৃদ্ধ ছাড়াও প্রায় সব বয়সি মানুষ।এদের একজনের সাথে আমাদের কথা হয়,নাম সিরাজ হোসেন, নবাবের সাথে মিল রেখে বাব-মা নাম রেখেছিলেন বয়স হলফ করে বলতে পারেননি তবে আনুমানিক ৬০ উর্ধ্বে।

ব্যক্তি জিবনে তিন সন্তানের জনক এখনো নিজের জীবন সংগ্রামে ব্যস্ত।দিনশেষে প্রতিরাতে ইউনিভার্সাল এমিটির দেয়া খাবার খেয়ে ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকেন।

সমাজের বিত্তবান শ্রেণি যদি এই সংগঠনের পাশে এসে দাঁড়ায়, যদি আর্থিক সাহায্য করার উদ্যোগ নেয়, তবে খুব দ্রুত গতিতে এই কাজ আরোও অগ্রসর হবে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মনে করে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না, সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে। মানবতা ও বিবেকের টানে, দেশের এই ক্রান্তিকালে “ফুড ফর গুড” প্রজেক্টের মাধ্যমে অসহায়দের জন্য “ইউনিভার্সাল এমিটি” এমিটি যেভাবে কাজ করে আসছে সেটা প্রশংসনীয়।

সাধারণ মানুষের আর্থিক সাহায্যে এবং ভালোবাসায় এই সংগঠনের ব্যপ্তি ছড়িয়ে যাক বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়নসহ প্রতিটি গ্রামে গ্রামে।

আপনার মতামত লিখুন :