গোয়ালন্দের সন্তান প্রশন দাশের ঝুলন্ত লাশ ঢাকার বাসা থেকে উদ্ধার

জীবন চক্রবর্তী, গোয়ালন্দ।
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:০৫ PM, ১৩ জুলাই ২০২০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশন দাশ (২৮) নামের এক তরুণ ঢাকার বাসায় আত্নহত্যা করেছে। সে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিজয় বাবুর পাড়ার মৃত পরিমল দাস এর ছেলে। প্রশন ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করত।

প্রশনের পরিবার জানায়, ঢাকার ধানমন্ডির ভাড়া বাসায় থাকত। সোমবার বেলা ১০ টার দিকে প্রশন ফ্যানের সাথে রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে মুঠোফোনে এক সহকর্মী প্রথমে তার মামাতো ভাই সুকুমারকে জানায়। এমন খবরে বাড়ির সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ে। গত শনিবার বাড়ি থেকে ঢাকায় যাবার সময় মা প্রশনকে বাসস্ট্যান্ডে মাহেন্দ্রে উঠিয়ে দেয়।

পরিবারের মধ্যে কোন ঝগড়া বা মনমালিন্য হয়নি। খবর পেয়ে প্রশনের আত্মীয়-স্বজন দ্রুত ঢাকায় প্রশনের বাসায় পৌঁছায়। সেখানে তারা প্রশনের লাশ দেখে কাঁন্নায় ভেঙে পড়ে। পরে ধানমন্ডির টাউন থানা পুলিশ লাশের ময়না তদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার কথা রয়েছে। পরে রীতি অনুযায়ী তার সৎকার করা হবে।

জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে স্বামী হারা দুই মেয়ে ও ছোট্ট প্রসনকে নিয়ে অতিকষ্টে বড় করেছেন মা মিনা দাস। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। প্রশন বিয়ে করেছে প্রায় ৭ মাস আগে। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পরিবার কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

ঢাকার বাসায় যারা একত্রে থাকত তারা তখন কেউ বাসায় ছিল না। দশটার দিকে একজন বাসায় ঢুকেই ফ্যানের সাথে প্রশনের ঝুলতে দেখে। এ দৃশ্য দেখে সোরগোল করলে লোকজন জড়ো হয়। পরে তার ফোন দিয়েই প্রশনের সহকর্মী ও বাড়িতে খবর জানানো হয়।

প্রশনের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে সে তার ফেসবুক আইডিতে আত্মহনন বিষয়ক নানা রকম কথা পোস্ট করে। এমনকি মহাশ্মশানে চিতার আগুনে মানুষের শেষকৃত্যের দৃশ্যেও ফেসবুক আইডিতে পাওয়া যায়। মৃত্যুের পূর্বে সে তার ফেসবুক আইডিতে মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়ে গেছে।

মা মিনা দাস আর্তনাদ করে বলেন, “আমার প্রশন কালকে ফোনে কত কথা কইল। মা, তুমি খাইছ নাকি? মা তুমি আমার জন্য কোন চিন্তা করবা না। তোমরা ভালো থাইক। আরও কত কথা কইল রে, কিন্ত কহনোই ভাবি নাই আমার প্রশন এভাবে ফাঁকি দিয়া চইলা যাবে।

প্রশনের স্ত্রী যেন পাথর হয়ে গেছে। শুধু কাঁন্নায় ভেঙে পড়ছে আর বলছে ‘ওতো চলে গেলো আমারে কি কইরা গেল, আমি এখন কোথায় যাব? কার কাছে দাঁড়াবো? কি নিয়া বাঁচব”।

আপনার মতামত লিখুন :