দৌলতদিয়ায় মারপিটে জেরে চিকিৎসা অবস্থায় গাজীর গানের শিল্পির মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩

মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৩৪ PM, ১৩ জুলাই ২০২০

রাজবাড়ীর জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় তুচ্ছ বিষয় কে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী গাজীর গানের শিল্পীকে মারপিট করে গুরতর আহত করার ১১দিন পর গত রবিবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

নিহত ওই শিল্পীর নাম শাহিন খান (৪০)। সে উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া ছিদ্দিক কাজী পাড়ার মৃত রহমত খানের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো ওই গ্রামের শাহিন খানের প্রতিবেশী জামাল মোল্লা (৫৫), তাঁর দুই ছেলে আমানত মোল্লা (২০) ও শামীম মোল্লা (১৮)।

গত রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ওই দিন দুপুরে শাহিন খানের মামা সোবাহান মোল্লা বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে অভিযুক্ত করে মারধর করে গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

শাহিন খানের স্ত্রী শহিতন নেছা বলেন, তাঁর স্বামী গ্রামসহ দূর-দুরান্তে ঘুরে ঘুরে গ্রামাঞ্চলে গাজীর গান গাইতো। এ কারণে তিনি এক নামে গাজীর গানের শিল্পী হিসেবে পরিচিত। গত ২৯ জুন সন্ধ্যায় গাজীর গান গাইতে রাজবাড়ী যান।

গভীররাতে সে বাড়ি ফিরলে প্রতিবেশী জামাল মোল্লা সহ দুই ছেলেকে নিয়ে তাকে ধরে ১নং ফেরি ঘাট সড়কের উল্টো পাশে জোমসের মোল্লার ঘরের পাশে নিয়ে মারধর করে। ঘরের পাকা দেয়ালে তার মাথা বার বার আঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢেলে কিছু সুস্থ্য করে।

এরপর সে বেশি অসুস্থ্য হলে ২ জুলাই গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেয়। ফরিদপুর হাসপাতালে তার অবস্থার অবনতি হলে ১০ জুলাই ঢাকার আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনষ্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তিনি মারা যান। সোমবার বিকেলের দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে। তাকে মারধরের কারণ হিসেবে স্ত্রী শহিতন নেছা বলেন, স্থানীয় লোক মারফতে জেনেছি ওই দিন (২৯ জুন) রাতে সে নাকি পাশের বাড়ি জামাল মোল্লার মেয়ের ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে ডাকতে ছিলেন। এ কারণে তাকে ধরে মারপিট করেছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান বলেন, ঢাকার একটি হাসপাতালে শাহিন খান চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তাঁর মামা সোবাহান মোল্লা বাদী হয়ে থানায় জামাল মোল্লাসহ দুই ছেলে আমানত মোল্লা ও শামীম
মোল্লার নামে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

ওই দিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তিন জনকে তাদের বাড়ি
থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় রাত দশটার দিকে শাহিন খানের
মৃত্যুর সংবাদ আসে।

সোমবার তাদেরকে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানোর সাথে হত্যা মামলা হিসেবে সংযুক্ত করতে আবেদন করা হয়েছে। কি কারণে তাকে মারধর করেছিল প্রকৃত কারণ এখনো উদঘাট হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :