গোয়ালন্দে ক্যানেল ঘাট থেকে পদ্না নদীতে অবৈধ ভাবে ড্রেজিং করে বালু বিক্রি (ভিডিও)

মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:২০ PM, ১৩ জুলাই ২০২০

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীর শাখা ক্যানেল ঘাটে মরা পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন এলাকার কয়েক জন প্রভাবশালী ব্যাক্তি।

অবৈধ ভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে দৌলতদিয়া বেপারী পাড়া গ্রামের কাদের বেপারী, দেবগ্রাম আতর আলী চেয়ারম্যান পাড়ার মিনু মেম্বার, ছোট ভাকলা ইউনিয়নের কাটাখালীর মফিজ উদ্দিন মফি, জাহিদ হোসেন, হিরা মিয়া।

নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর দু পাশে কয়েক টি গ্রাম সহ ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হতে চলছে। এলাকার বাসী বলেন বার বার নিষেধ করার পর ও কোন কাজ হচ্ছে না। আমাদের চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার নেই, কারন আমরা তো গরীব মানুষ।

পদ্মা নদীতে বাড়ী ঘর ভেঙ্গে যাবার পর এখানে এসে আবার বাড়ী ঘর করেছি। নদী থেকে ড্রেজিং করে বালু উত্তেলনের ফলে আবারো নদী গর্ভে ঘর বাড়ী সহ ফসলী জমি নদীতে চলে যাবে। প্রতি বছরই ড্রেজিং চলে আবার মাঝে মাঝে পুলিশ এসে বন্ধ করে দেয়, দুই এক দিন পর থেকে পুনোরায় আবার চালানো হয়।

স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের নিকট ড্রেজিং বন্ধের আকুতি জানালেও কোন কাজ হয়নি। উপরোন্তু শুনতে হয়েছে নানা হুমকি ধামকি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া মরা পদ্মা নদীর ক্যানেল ঘাট থেকে দেবগ্রামের অন্তার মোড় পর্যন্ত অবৈধ ভাবে ড্রেজিং করা হচ্ছে, তার ফলে আবাদি জমি সহ কয়েক টি গ্রাম রয়েছে ঝুকির মধ্যে। এই অবৈধ ড্রেজার বন্ধ করা না হলে গ্রাম সহ শত শত বিঘা ফসলী জমি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

আতর আলী চেয়ারম্যান বাজার এলাকার মোছা. মাজেদা বেগম নদীতে জমি বাড়ী ঘর বিলিন হয়ে এখন নিশ্ব:স, রাস্তার পাশে সরকারী জমিতে ঘর তুলে থাকেন, তার ঘরের সাথে ড্রেজিং করে মাটি কাটছে দেবগ্রাম ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের স্মামী মিজানুর রহমান মিনু। মোছা. মাজেদা বেগম বলেন এ ভাবে আমার বাড়ীর পাশে থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে নিলে বাড়ী ঘর নদীর মধ্যে চলে যাবে। আমরা গরিব মানুষ ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনা ।

দৌলতদিয়া ওমর আলী মোল্লার পাড়া মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন (৬০) বলেন পদ্মা নদী শুকিয়ে এখানে চর জেগেছিলো আমরা এখানে ধান চাষ করে খেতাম, কিন্তুু ড্রেজার দিয়ে মাটি তুলে বিক্রি করার কারনে এখন আর ধান চাষ করা যায় না, নদী আবার গভীর হয়ে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

এভাবে মাটি কাটলে আমাদের বাড়ী ঘর নদীতে ভেঙ্গে যাবে। বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও কাদের বেপারী জোড় করে বালু বিক্রি করছে। এ ছাড়াও দেবগ্রাম তেনাপেচা নতুন গ্রামে মাটি কাটছে মফিজ উদ্দিন, ও হিরা মিয়া, পেশাদার বালু ব্যবসায়ী।

এদের কয়েক টি ড্রেজার মেশিন রয়েছে প্রতিনিয়ত নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে। এই বালু উত্তোলন কারী চক্রটি সংঘবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ দিন অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে।

মাটি ব্যবসায়ী মো. আ. কাদের ফকির বলেন, জমির মালিকদের নিকট থেকে হাজার হিসাবে মাটি ক্রয় করেছি । আমার কাছে মাটি কাটার ব্যাপারে কেও কোন অভিযোগ করে নাই।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নিবার্হী আফিসার আমিনুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কোন সুযোগ নাই। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

আপনার মতামত লিখুন :