গোয়ালন্দে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৮ জন

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪৫ PM, ২৮ জুন ২০২০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যসহ ৮জন আহত হয়েছে। আহতদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে এক জনকে মুমর্ষ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।

দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরাল মোল্লা ওরফে নুরাল মেম্বারের থানায় অভিযোগে বলেন, রোববার সকালে তিনি ব্যাংকে জরুরী কাজে অবস্থান করছিলেন। এসময় বাড়ি থেকে তিনি ফোনে জানতে পারেন, মাইনদ্দিন শেখ ওরফে মানে মেম্বার তার ছেলে ও ভাতিজাসহ অজ্ঞাত কয়েকজন রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে সবাইকে গালাগালি করছে। বাড়িতে থাকা বড় ভাই দুলাল মোল্লা (৪৭) প্রতিবাদ করতে গেলে মানে মেম্বারের লোকজন রামদাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাত্ব জখম করে। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে আমার বোন শাহেদা বেগম (৪১), ভাগ্নে লাল চাঁদ (৩৫) ও চাচাতো ভাবী মাজেদা বেগম (৪৫), এগিয়ে গেলে অস্ত্রের আঘাতে তাদেরও রক্তাত্ব জখম করা হয়। এছাড়া লাঠি-শোটার আঘাতে ছেলে অসিম মোল্লা (১৩), ভাতিজা হেলাল মোল্লা (১৬), রিপন মোল্লা (২৭) সহ কয়েকজনের শরীরে নীলা ফোলা জখম হয়।

এর আগে গত শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে স্থানীয় কাওয়ালজানি মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মাইনদ্দিন শেখ ওরফে মানে মেম্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর শেখ এর সাথে তার (নুরাল মোল্লা) ভাতিজা হেলাল মোল্লার মধ্যে কথাকাটি ও হাতাহাতি হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে রোববার সকাল ১০ টার দিকে মানে মেম্বারসহ তার ছেলে জাহাঙ্গীর শেখ, পরশ শেখ, আলমগীর শেখ, মাইনদ্দিন শেখ ওরফে মানে মেম্বারের ভাই মুজাই শেখ, তার ছেলে হাবিব শেখ, লাল চাঁদ শেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫জন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় মানে মেম্বারসহ তাদের লোকজন ঘরের শোকেচে মেয়ের পার্টসে থাকা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৩ ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনা ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে। তারা খুব ভয়ঙ্কর প্রকৃতির। এদের মধ্যে মানা মেম্বার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ সাথে করে তিনি বাড়ি গেলে পুলিশের সামনে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকেও মারধর করেন। পুলিশের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে মারধর করলে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল থেকে মোজাই শেখ (৬০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃত মোজাই শেখ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের ছোটদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে রোববার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে তাদের পরিবারের আরো তিনজনকে মারধর করে আহত করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতিতে নুরাল মেম্বারকে মারধরের সময় তিনি ছিলেননা বলে দাবী করেন।

এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান-পিএিম বলেন, সকালে মারামারির অভিযোগ পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত মোজাই শেখ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে বিকেলেই রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :