গোয়ালন্দে ‘ঘোষণা’ দিয়ে তরুণ ব্যবসায়ী পাপনের আত্মহত্যা (ভিডিও)

বিশেষ প্রতিনিধি
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৫০ PM, ২৬ জুন ২০২০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঘোষণা দিয়ে পাপন সাহা (২৫) নামের এক তরুণ ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছে। সে গোয়ালন্দ বাজার রেলষ্টেশন সংলগ্ন মৃত অশোক সাহার ছেলে। ষ্টেশনে ভাড়া করা দোকানে ষ্টীলের ফার্নিচারের দোকান করতো পাপন। বাড়ি সংলগ্ন গোয়ালন্দ ঘাট থানার সীমানা প্রাচীরের ওপর দেয়াল তুলে ঘর সম্প্রসারণের কাজ করায় বৃহস্পতিবার পুলিশ ধরে নিয়ে আটকে রেখে সন্ধ্যার পর ছেড়ে দিলে রাতেই সে আত্মহত্যা করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোয়ালন্দ থানার পূর্বপাশের গেটের সাথে লাগানো নিহত পাপনের বাড়ি। প্রায় ৪৫ বছর ধরে রেলওয়ের জায়গায় তারা বাস করছে। বাড়ি থেকে কিছুদূরে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে সে ষ্টীলের ফার্নিচারের দোকান করতো। থানার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে ঘর সম্প্রসারণের কাজ করছিল পাপনের পরিবার। থানার সীমানা প্রাচীরের ওপর কাজ করায় বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ কাজ করতে নিষেধ করে। কাজ অব্যাহত থাকলে দুপুরে ওসি পাপনকে ডেকে থানা হেফাজতে আটকে রেখে বিশেষ অভিযানে যায়। সারাদিন হাজতে থাকার পর রাত আটটার দিকে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। পৌনে বারোটার দিকে ওসিকে ফোন করে পাপন কষ্টের কথা শেয়ার করে। এরপরই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে আত্মহত্যা করে।

শুক্রবার পাপনের বাড়িতে দেখা যায়, মা পুষ্পরানী ও একমাত্র বোন হ্যাপী রানী সাহা কান্নাকাটি করে বার বার মুর্ছা যাচ্ছে। জানতে চাইলে পাপনের মা ও বোন কান্নারত অবস্থায় বলেন, পনের দিন ধইরা ওয়াল করছি তা কেউ দেখলো না। কাল ঘরের কপালী দিচ্ছে এই সময় ওসি দুপুরে এসে ধরে নিয়ে গেছে। সারাদিন আটকে রেখে রাত আটটার দিকে ছেড়ে দিছে। অনেক রাতে ওসিকে ফোন করে পাপন আত্মহত্যা করার কথা বলে। সারাদিন আটকে রাখায় আমার ছেলে মেনে নিতে পারেনি।

তিনি বলেন, ৩৫ বছর ধরে আমার বিয়ে হয়েছে। তার অনেক আগে থেকে এখানে ওর বাবা বাস করতো। আমার ছেলে ভালো মানুষ ছিল। এলাকার কেউ তাকে খারাপ বলতে পারবে না। কারো সাথে কোন দিন গ্যাঞ্জাম করেনি। পুলিশ আমার সোনার টুকরাকে থানায় ধইরা নিল ক্যা রে। এভাবেই বিলাপ করতে ছিলেন।

পৌরসভার স্থানীয় কাউন্সিলর কোমল কুমার সাহা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে সাড়ে দশটার দিকে পাপন ফোনে বলে, আমাকে এক ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে ওসি কাজ করতে বলেছেন। আমি তাকে অন্তত ৬ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে কাজ করতে বলি। প্রয়োজনে ওসির সাথে কথা বলব। রাত পৌনে বারোটার দিকে আমার ছেলে পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহার কাছে পাপনের আত্মহত্যার খবর আসে। খবর পেয়ে ওর দোকানে গিয়ে দেখি মাটিতে পড়ে আছে।

পাপনের সাথে রাত্রে ঘুমায় স্থানীয় পঙ্কজ সাহা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে সবার সাথে স্বাভাবিক কথা বলে ঘুমানোর জন্য বিছানা ফেলতে বলে। আমি ঘুমিয়ে পড়লেও ও কাজ করছিল। অনেক রাতে সবাই এসে ঘর খুলতে বললে আমি খোলার আগেই বাইরে থেকে দরজা খুলে ভিতরে দ্রুত প্রবেশ করেই দোকানে গিয়ে দেখি পাপন পড়ে আছে।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. আশিকুর রহমান বলেন, থানার সীমানা প্রাচীরের ওপর দেয়াল করায় সকালে বারণ করা হয়। এরপরও কাজ করায় দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে তাকে থানা হাজতে রেখে জরুরী অভিযানে বাইরে যাই। সন্ধ্যায় থানায় ফিরে এক ফুট জায়গা রেখে কাজ করার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেই।

তিনি বলেন, রাত ১১.৫৫ মিনিটে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোনে বলেন, স্যার আমি ওই ছেলে যাকে ধরে নিয়ে থানায় আটকে রেখেছিলেন। আমার তো টাকা, বাড়ি নাই। আমি এখন আত্মহত্যা করবো। কাল সকালে এসে লাশটা নিয়ে যাবেন। আমি ফোনে কথা বলতে বলতে তার বাড়ি গিয়ে ডাকতে থাকি। ওর বোন বের হলে পাপন দোকানে থাকে বলে জানায়। পাপনের অসংলগ্ন কথাবার্তা তাদের জানিয়ে দ্রুত খোঁজ নিতে বলি। পরে শুনি সে দোকানে বিদ্যুৎস্পর্শে আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে থানায় পাপনের বোন বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে।

👉ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন

আপনার মতামত লিখুন :