রাজবাড়ীতে আলোচিত শহীদ হত্যাকান্ডে আরো ২ জন গ্রেপ্তার

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৪৮ PM, ২৫ জুন ২০২০

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ইটভাটা ব্যবসায়ী আলোচিত শহীদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাদের কাজী (৪৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কাদের কাজী চর পাচুরিয়ার আন্ধারমানিক গ্রামের মৃত মকিম কাজীর ছেলে। আলোচিত এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবী, কাদের এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকা থেকে ভোররাতে তাকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কাদের কাজী শহীদ হত্যা মামলার এজারভুক্ত ৪ নম্বর আসামী। এদিকে একই দিনে পাঁচুরিয়ার দয়ালবন্ধ এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ১০নম্বর আসামী মাইনুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শহীদ হত্যা মামলার আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ জেলহাজতে পাঠায়। এ মামলার এ পর্যন্ত এজাহারভুক্ত ৪ জন এবং এজাহার বহির্ভূত ২ জনসহ ৬জনকে গ্রেপ্তার হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) হিরুন বিশ্বাস, আব্দুস সামাদ সহ সঙ্গীয় সদস্যরা গত মঙ্গলবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মীরপুর পল্লবী থেকে কাদের কাজীকে গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী নিয়ে আসে।

এদিকে কাদের কাজীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তার ভাই আব্দুল কাইয়ুম কাজী দাবী করেন, কাদের এক সময় নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে আত্মপক্ষ সমর্পনের সুযোগ দিলে কাদের ওই সময় আত্মসমর্পন করে। এরপর থেকে সে স্বাভাবিক জীবন শুরু করে ঢাকায় পোশাক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য হওয়াসহ সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকে। করোনকালীন সময়ে নিজস্ব অর্থায়নে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

তার এক সময়কার সঙ্গী ওমর ফারুক বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। কাদেরের বিরুদ্ধে সবসময় কুৎসা রটনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের চক্রান্ত করতে থাকে। ফারুক একাধিক হত্যাকান্ড ও অস্ত্র মামলার আসামী। আলোচিত শহীদ হত্যাকান্ডটি যেদিন ঘটে কাদের তখন ঢাকায় অবস্থান করছিল। এই সুযোগে প্রতিপক্ষ তাকে ফাসাতে ওই মামলায় ৪নম্বর আসামী করেছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, শহীদ হত্যা মামলা আলোচিত হত্যাকান্ড। দিন দুপুরে তাকে রাস্তায় গুলি করে মেরে ফেলা হয়। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এজাহারভুক্ত ৪ জন এবং এজাহারবহির্ভুত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাদের কাজী আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা পার্টি করতেন। গত বছর সরকার নিষিদ্ধ এসব দলের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবন যাপনে আত্মসমর্পনের সুযোগ দিলে কাদের কাজী আত্মসমর্পন করে সুস্থ্য জীবন যাপন শুরু করেন।

রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ শরিফুজ্জান বলেন, কেউ দিনের বেলায় হত্যাকান্ড ঘটিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে তা কেউ চান না। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত এ পর্যন্ত মোট ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও অতিশীঘ্রই ধরতে পারবেন বলে আশা করছেন। তবে সন্ত্রাসী যত শক্তিশালী হউক আইনের আওতায় তাদের আসতেই হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন সদর উপজেলার খানখানাপুরের ইটভাটা এলাকার কাছে ইটভাটা ব্যবসায়ী শহীদকে দিন দুপুরে বেলা ১১ টার দিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

আপনার মতামত লিখুন :