মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়া যাবে কি না?

BDSUNRISE
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:০৯ PM, ২৪ জুন ২০২০

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব থমকে গেছে। ঘরবন্দি হয়ে গেছে কোটি কোটি মানুষ। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বের হলেও বের হচ্ছে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে।

মসজিদগুলোতে আজান হলেও জামাতে নামাজির উপস্থিতি একদম কম। ইমাম মুয়াজ্জিন ও স্থানীয় গুটিকয়েক মানুষ পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে মসজিদ নামাজ আদায় করছেন। অনেকে আবার ঘরেই জামাত করে নামাজ পড়ছেন। এ ক্ষেত্রে সতর্কতাবশত বেশির ভাগ মানুষ মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়ছেন।

যেহেতু এর আগে মানুষ এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি, তাই এভাবে কাউকে মুখে মাস্ক পরেও নামাজ পড়তে হয়নি। তাই বিভিন্ন মানুষের মনে এই প্রশ্নটি উঁকি দিচ্ছে যে, মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়া যাবে কি না?

বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষকে বাধ্য হয়ে মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে। এটা একটি শরয়ী ওজর। তাই এই বিপদের মুহূর্তে রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করাতে শরীয়তের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। (আদ্দুররুল মুখতার : ১/৬৫২, রদ্দুল মুহতার : ১/৬৫২)।

তবে স্বাভাবিক অবস্থায় মাস্ক কিংবা অন্য কিছু দিয়ে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ আদায় করা মাকরুহ। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ (সা.) এভাবে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) যেকোনো ব্যক্তিকে নামাজরত অবস্থায় তার মুখমণ্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯৬৬)।

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নামাজের সময় কাপড় ওপর থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিতে ও মুখ ঢেকে রাখতে নিষেধ করেছেন। (আবু দাউদ, হাদিস: ৬৪৩)।

আনাস ইবনে মালেক (রা.) আরেক হাদিসে বর্ণনা করেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সঙ্গে নামাজ আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার ওপর সিজদা করত।’ (বুখারি শরিফ, হাদিস: ১২০৮)।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সিজদা করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপাল দ্বারা এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দুই হাত, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের আঙুলগুলো দ্বারা। আমরা যেন চুল ও কাপড় গুটিয়ে না নিই। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮১২)।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, আল্লার রাসূল (সা.) আর্দ্র মাটিতে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তার কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখেছি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০৩৬)।

উল্লিখিত হাদিসগুলোতে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হলেও, অসুস্থতা ও অপারগতার বিষয়টা ভিন্ন। ইসলাম কখনোই মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারো ওপর সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৮৬)।

যেহেতু করোনাভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা জানি না যে, আমরা নিজেরা আদৌ এই ভাইরাস থেকে মুক্ত আছি কী না? কিংবা যে মানুষটির সংস্রবে আমি যাচ্ছি তিনি এই মরণঘাতী থেকে মুক্ত কী না? তাই আমাদের উচিত সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এবং এটাই ইসলামের শিক্ষা। তাই আমরা জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করব।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই মরণব্যাধি নভেল করোনাভাইরাস সহ বিভিন্ন রোগ-বালাই ও আজাব-গজব থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন :