প্রথমবারের মতো অনলাইনে শুরু আন্তর্জাতিক ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্মেলন

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০০ PM, ২১ জুন ২০২০

পলাশীর যুদ্ধ: সত্যের অনুসন্ধানে’ প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে মুক্ত আসরের উদ্যোগে বাংলাদেশ ইতিহাস অলিম্পিয়াড ও বাংলাদেশ হেরিটেজ স্টাডি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন পলাশী দিবস উপলক্ষে অনলাইনে আন্তর্জাতিক ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্মেলনের (আইসিএইচসি) আয়োজন করেছে।

গতকাল শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় থেকে চার দিনব্যাপী এ আয়োজন শুরু হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন বাংলাদেশ হেরিটেজ স্টাডি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বিশিষ্ট অভিনেতা ড. ইনামুল হক, বাংলাদেশ ইতিহাস অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইতিহাসবিদ অধ্যাপক এমরান জাহান, ড. আবেদা সুলতানা, নুরুন আখতার, আহমেদ হেলাল, বাংলাদেশ হেরিটেজ স্টাডি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জাকির হোসেন ও মহাসচিব শাহিদা খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ইতিহাস অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবেদা সুলতানা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক কামাল লোহানীকে স্মরণ করে গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেন। এর সঙ্গে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। পলাশীর আট ঘণ্টা স্থায়ী যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে পলাশীর যুদ্ধের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জীবনদর্শনের কথা জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, যে জাতি পূর্বপুরুষদের কাছে থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।

নুরুন আখতার বলেন, আন্তর্জাতিক ইতিহাস-সংস্কৃতির সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে ইতিহাস হয়ে থাকবেন।

জাতীয় মানসিক হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এমন সময়ে এই আয়োজন করছি, যখন বিশ্বময় করোনায় সংকটমুহূর্ত। এই ধরনের আয়োজন মানসিকভাবে ভালো। আর আমাদের সবাইকে ইতিহাসের কাছে যেতে হবে। মানসিক উন্নয়নের জন্য ইতিহাসচর্চা করতে হবে। ইতিহাসকে বাদ দিয়ে কখনো স্বপ্ন দেখা যায় না।’

ইনামুল হক বলেন, ‘যখন ঘরে বন্দী, তখন এমন আয়োজন করে বেশ ভালো লাগছে। কারণ ইতিহাসকে জানতে হবে। ইতিহাসকে জানলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো হবে। পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে অনেকে জানে, কিন্তু ব্যাপকভাবে জানে না। এই আয়োজনের মাধ্যমে অনেকে ইতিহাসের অনেক কিছুই জানতে পারবে।’

এমরান জাহান বলেন, পলাশীর যুদ্ধের ঘটনাকে নিয়ে দেশ-বিদেশের ১০ জন গবেষক ও অধ্যাপক কথা বলবেন। অংশগ্রহণকারীদের তিনি অশেষ ধন্যবাদ জানান।

চার দিনের এই সম্মেলনে ৪টি দেশ থেকে ১০ জন খ্যাতিমান গবেষক ও শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে পলাশীর যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ৯টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ। পরে পলাশীর যুদ্ধের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া।

আজ রোববার তিনটি সেমিনার রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাজ্যের লেখক ও গবেষক প্রিয়জিৎ দেব সরকার, রাত ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুমিত আল রশিদ এবং ইরানের ইয়াজদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক কাজেম কাহদুয়ি আলোচনা করবেন।

আগামীকাল সোমবার থাকবেন ভারতের অধ্যাপক মো. খাইরুল আনাম এবং লেখক ও শিল্পী শ্রীসলিল কুমার দাস। শেষ দিন থাকবেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক অশীষ কুমার দাস ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এমরান জাহান।

আয়োজন সম্পর্কে বাংলাদেশ ইতিহাস অলিম্পিয়াড জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, ‘দেশের করোনাকালে ভয়াবহ পরিস্থিতে আমরা মানসিকভাবে ভালো নেই। কিন্তু এটাই সত্য, আমাদের উত্তরণের জন্য নানা রকমের কর্মকাণ্ড সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। করোনার জন্য প্রথমবারের মতো অনলাইনে পলাশী দিবস উপলক্ষে চার দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্মেলনের আয়োজন করছি। নিশ্চয়ই এমন আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারের কাছে নিয়ে যেতে পারব।’

আয়োজনটি বাংলাদেশ ইতিহাস অলিম্পিয়াড ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

আন্তর্জাতিক ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্মেলনে সহযোগিতায় স্বপ্ন ‘৭১ প্রকাশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা সংসদ ও বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন বিজ্ঞানচিন্তা।

আপনার মতামত লিখুন :