গোয়ালন্দে সাংবাদিক দম্পতি সহ নতুন করে চারজন করোনা পজিটিভ

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২৭ PM, ২০ জুন ২০২০

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিনিধি শামীম শেখ ও তাঁর স্ত্রী সহ চারজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। আজ শনিবার মোট ২৩ জনের করোনার রিপোর্ট আসে। এরমধ্যে ৪ জনের পজিটিভ এবং বাকি সবার নেগেটিভ আসে। আক্রান্ত সবাইকে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ নিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলায় মোট ৩৭ জন করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই সুস্থ্য হয়ে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ। সাংবাদিক শামীম শেখ দৌলতদিয়া মডেল হাই স্কুলে শিক্ষকতাও করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ জানান, ১৩ জুন সাংবাদিক শামীম তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় তাঁদের শরীরে করোনার উপসর্গ থাকায় ১৫ জুন নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারা সহ গোয়ালন্দ উপজেলার মোট ২৩ জন থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আজ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে এদের প্রত্যেকের ফলাফল আসে।

এতে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার গোয়ালন্দ উপজেলা প্রতিনিধি ও গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম শেখ (৪২) এবং তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তার (৩৫)সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রাঁধুনি (৫৫) ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুর এলাকার এক ব্যক্তির (৪০) শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তির শরীর থেকে নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো জানান, গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার (বাড়ি রাজবাড়ী সদর এলাকার মধ্যে) কয়েকজন রয়েছেন। যারা অসুস্থ্য হলে কাছাকাছি হওয়ায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে আসেন।

তাদের দায়িত্ব রাজবাড়ী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে দেওয়া হয়েছে। এসব বাদ দিয়ে গোয়ালন্দে এ পর্যন্ত মোট ৪২৫ জনের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে নিয়মিত রয়েছেন ১৭ জন। ২৯ জনের মতো সবাই সুস্থ্য হয়েছেন। একজন শিক্ষক মারা গেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩ জন, হোম আইসোলেশনে আছেন ১৪ জন ও হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৭৩ জন।

সাংবাদিক শামীম শেখ জানান, গত ১২ জুন থেকে তাঁর স্ত্রী লিপি আক্তারের শরীরে ব্যাথাসহ করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসককে দেখাতে যান। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ তাদেরকে দেখার পর করোনার নমুনা প্রদানের কথা বললে ১৫ জুন তারা স্বামী-স্ত্রী উভয়ই করোনার নমুনা প্রদান করেন। তাঁর (শামীম) শরীরেও জ্বর, শর্দিসহ করোনার উপসর্গ ছিল। শনিবার বিকেলে তাদের উভয়ের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। নিজেদের নিয়ে না ভাবলেও ঘরে একমাত্র শিশু সন্তান ও বয়স্ক অসুস্থ্য মা থাকায় দুশ্চিন্তায় আছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :